গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬
তারিখ সন্ধা ৬টা ৫০মিনিট হতে রাত ৮টা ৪০মিনিট পর্যন্ত
অত্র ব্যাটালিয়নের বেনীপুর বিওপির
দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মেইন পিলার ৬১/৭-এস এর নিকট বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজিবি-বিএসএফ
ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত পতাকা বৈঠকে বিজিবি’র
পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৫৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ তাজুল
ইসলাম, জি+ এবং প্রতিপক্ষ বিএসএফ এর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৯ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ এর
কমান্ড্যান্ট এস বি মূখার্জি। উক্ত পতাকা বৈঠকে অদ্য আনুমানিক রাত ২টা ৩০মিনিট এর
সময় সীমান্ত পিলার ৬০/৫৫-আর থেকে আনুমানিক ৫০০ হতে ৬০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে হাজরাখাল
(জিআর-৫৪৫৭৪৭ মানচিত্র ৭৯ এ/১১,১৫) নামক স্থানে বাংলাদেশী নাগরিক মোঃ জসিম উদ্দিন মন্ডল
(২৬), পিতা-মৃত মোঃ দাউদ মন্ডল, গ্রাম-শৈলবলদিয়া, ডাকঘর-বেগমপুর, উপজেলা-চুয়াডাংগা
এবং জেলা-চুয়াডাংগাকে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে ৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের
হাজরাখাল ক্যাম্পের টহল দল কর্তৃক আটক করার চেষ্টা করলে সে এবং তার সঙ্গিরা দা এবং
দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিএসএফ টহল দলের উপর আক্রমন করে। বিএসএফ এর টহল দল তাদের
উপর ফায়ার করলে উপরোল্লেখিত বাংলাদেশী নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে
নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা
করে। উক্ত বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হওয়ার ব্যাপারে বিএসএফকে জোড় প্রতিবাদ জানানো হয়
এবং হত্যার সাথে জড়িত বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত
করতঃ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এর ফলশ্রুতিতে বিএসএফ এর
পক্ষ থেকে এ অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। উক্ত
পতাকা বৈঠকে ময়না তদন্তকৃত মৃতদেহটি ভাতীয় হাসখালী থানা পুলিশ হতে মহেশপুর থানা
পুলিশ বাংলাদেশী গ্রহণ করত: মৃত ব্যক্তির নিকটতম আতীয়স্বজন এর নিকট হস্তান্তর করা
হয়। এছাড়াও বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, গরু চোরাচালানীদের
সাথে জড়িত ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং মাদকদ্রব্য ও গরু
চোরাচালান প্রতিরোধের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে যেকোন
পরিস্থিতিতে বাংলাদেশী নাগরিককে বিএসএফ কর্তৃক গুলি চালানো বন্ধ করা এবং অসদাচরণ
প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ এর প্রতি আহব্বান জানানো
হয়। বিএসএফ এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশী নাগরিক কর্তৃক অবৈধ অনুপ্রবেশ, কাটাতারের বেড়া কাটা
এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র
দ্বারা বিএসএফকে আঘাত না করার জন্য অনুরোধ করা হয়। পরিশেষে উভয় দেশের সীমান্ত
রক্ষী বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা ও শান্তি শৃঙ্খলা সুসংহত
রাখার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনার
মাধ্যমে পতাকা বৈঠক শেষ হয়।
No comments:
Post a Comment